ভাগ্য
জ্যোতিষ ও ভাগ্য
এই যে আমাদের শুভ অশুভ বা মানুষের এত কষ্ট , এত জ্বালা , এত যন্ত্রণা এর জন্য দায়ী কে ? অনেকে বলেন কর্মফল তবে আমার উপলব্ধি গ্রহের ফল মুখ্য । কারন রবি দেয় সৃষ্টি ক্ষমতা চন্দ্র দেয় মনন ক্ষমতা মঙ্গল দেয় তেজ ও সক্রিয়তা বুধ দেয় বুদ্ধি বৃহস্পতি দেয় ঐশী ক্ষমতা {প্রজ্ঞা শক্তি ] শুক্র দেয় ভোগ ও মাধুর্য , সৌন্দর্যজ্ঞান , শনি দেয় ত্যাগ ও তিতিক্ষা রাশি চক্রে এরা যেমন বলে বলীয়ান থাকবে জাতকের কাজ সেই রকম হবে । জ্যোতিষ শুধু বিজ্ঞান নয় বিজ্ঞানের বিজ্ঞান । জন্মের সময় আমাদের মহাকাশের গ্রহ নক্ষত্ররা আমাদের যেমন ভাবে প্রভাবিত করে ভাগ্য রুপে আমাদের জীবনের ফল দাঁড়ায় ।আমি মনে করি ভাল মন্দ সবই সৃষ্টি কর্তার খেলা ।
এই কথা উপলব্ধি করেই ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব বলেছিলেন " গাছের একটি পাতাও নড়ে না তার ইচ্ছে ছাড়া ।" একজন জ্যোতিষী বলতে পারেন আপনার ভাগ্যে কি আছে কিন্তু তিনি তা পাল্টাতে পারেন না । কিছু জ্যোতিষী যারা জ্যোতিষের নামে অন্যায় ভাবে ক্লাইনট কাছে অর্থ লুটে নেবার ধান্দায় থাকে । মানুষের জন্ম মৃত্যু বিবাহে কোন হাত আমাদের নেই । জন্মকালীন শুভ গ্রহ নক্ষত্রের যোগাযোগ না থাকলে হাজার চেষ্টা করেও মানুষ কোন বিষয়ে সফল হতে পারে না । যারা নাস্তিক , বা গ্রহ নক্ষত্র বোঝেন না আমার মনে হয় সর্বশক্তিমান ঈশ্বর তাদের বুঝতে দিতে চান না । সঠিক ভাগ্য জানা বা ভাগ্যের হদিশ পাওয়া সবার পক্ষে সম্ভব নয় । দস্যু রত্নাকর যদি বাল্মিকি হতে পারেন , তেমনি ভাল মানুষ দশা অন্তরদশার ভাল সময়ে ভাল থাকেন তেমনি খারাপ অন্তরদশা দশাতে খারাপ হয়ে যায় । তেমনি খারাপ মানুষ খারাপ কাজ করলে ভাল দশা অন্তরদশা তে ভাল কাজ করতে পারে । ঈশ্বরে ইচ্ছায় গ্রহ নক্ষত্ররা কাজ করে , অনেক সময় একজন ভাল মানুষ খারাপ সময় চলার জন্য তাকে অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে জেতে হয় । দৈব্য কৃপা না থাকলে শুভ ফল পাওয়া অসম্ভব ।
মানুষের জীবনের অনেক অজানা রহস্য ও অজানা তথ্য জ্যোতিষের দ্বারা জ্ঞাত হতে পারি । রাশিয়ার পদার্থ বিজ্ঞানী Prof. Lakhvsky স্বীকার করেছেন " জন্মকালে আকাশে গ্রহদের অবস্থানের অতি প্রাচিন ঋষিরা যে প্রভুত গুরুত্ব আরোপ করেছেন , সেটা মোটেই অহেতুক নয় । কারন গ্রহদের থেকে নির্গত রাশির কম্পন শুধু যে জীবজগৎ এর ভ্রূণ এর উপর যে গ্রহ রশ্মির প্রভাব পড়ে । ১২ টি রাশি ৯ টি গ্রহ ২৭ টি নক্ষত্র এর উপর ভিত্তি করে আমরা ভাগ্য গণনা করে থাকি ।
রাশি ঃ মেষ বৃষ মিথুন কর্কট সিংহ কন্যা তুলা বৃশ্চিক ধনু মকর কুম্ভ মীন
গ্রহ ঃ রবি চন্দ্র মঙ্গল বুধ বৃহস্পতি শুক্র শনি রাহু কেতু
নক্ষত্র ঃ অশ্বিনী ভরণী কৃত্তিকা রোহিণী মৃগশিরা আদ্রা পুনর্বসু পুষ্যা অশ্লেষা মঘা পূর্বফাল্গুনী উত্তর ফাল্গুনী হস্তা চিত্রা স্বাতী বিশাখা অনুরাধা জ্যেষ্ঠা মুলা পূর্বসাঢ়া উত্তরসাঢ়া শ্রবনা ধনিষ্ঠা শতভিসা পূর্বভাদ্রপদ উত্তরভাদ্রপদ রেবতী
জন্মকালীন জন্মস্থানের আকাশে যে রাশি উদয় হয় তাকে লগ্ন বলে । লগ্ন থেকে জাতকের আকৃতি তার মানসিক গতি প্রকৃতি স্বভাব বিচার করা হয় ।
দ্বিতীয় ভাব ধন সম্পদ বিচার করা হয়
তৃতীয় ভাব পরাক্রম সাহস সন্মান
চতুর্থ ভাব গৃহ সুখ , মাতৃভাব
পঞ্চম ভাব বুদ্ধি মানসিক অনুভুতি সন্তান
ষষ্ঠ ভাব ষড় রিপু
সপ্তম ভাব জায়া ভাব
অষ্টম ভাব মৃত্যু আয়ু
নবম ভাব ভাগ্য ধর্ম তপস্যা
দশম ভাব কর্মস্থান
একাদশ ভাব আয় , ইচ্ছা পূর্তি
দ্বাদশ ভাব ব্যয় ভাব
বিচার হবে কি ভাবে ?
১ লগ্ন ২ চন্দ্র লগ্ন ৩ সূর্য লগ্ন ৪ দশা অন্তরদশা ৫ গোচর ৬ জ্যোতিষীর নিজস্ব ক্ষমতা
নিয়তি বা ভাগ্য বা দৈব সৃষ্টি করেন ভগবান । আর এই রহস্যময় এই নিয়তি শক্তি আমাদের পরিচালিত করে । "ন চ দৈবাৎ পরং বলম "
মানুষের কর্ম আগে থেকে নির্ধারিত , কখন কি হবে , সেটা আগে থেকে নির্ধারিত , তেমনি মানুষের মনের কোন বাসনাও পূর্ব নির্ধারিত । মনের কোন ইচ্ছা যখন বাস্তবে পরিণত হয় তখন সেটা ধরে নিতে হবে সেটা দৈব নির্ধারিত । ইশ্বরের ইচ্ছা বিনা কোন কিছু সম্ভব নয় । প্রায় বেশিভাগ পুরুষ কামনা করেন সুস্বাস্থ্য সুবিদ্যা সুকর্ম সুন্দর স্ত্রী । মহিলারা কামনা করে সুন্দর সুস্বাস্থ্যের অধিকারী পুরুষ , যিনি হবেন বিদ্যান দয়ালু অর্থবান আর সেই পুরুষ হবে স্ত্রীর প্রতি যত্নবান । বাস্তবে তা হয় না । কজন এই সৌভাগ্যের অধিকারী ।তাই মানুষ তাঁর বাসনা বা ইচ্ছে কাজ করতে পারে কিন্তু তার বাসনা স্বাধীন নয় তা সম্পূর্ণ দৈব নিয়ন্ত্রিত । কারন জীবনে ভাল কাজ করেও তাকে অত্যন্ত কষ্টে জীবন যাপন করতে হয়েছ । শাস্ত্র মতে এটা পূর্ব জন্মের কর্মফল হিসাবে চিহ্নিত । আগের জন্মের কর্মফলের ভোগ । এখানে স্বীকার করতে হবে " দৈবই পরম বল , পুরুষকার অর্থহীন "
গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বার বার দৈব শক্তির কথা বলেছেন । স্বয়ং বিষ্ণু অবতার শ্রীরামচন্দ্র ১৪ বছর বনবাসে ছিলেন , শ্রীরামচন্দ্র অসীম শক্তির অধিকারী হয়েও তার ১৪ বছর ্বনবাস কমাতে পারেননি । ভাগ্যে যা লেখা আছে তা ঘটবে এটাই ললাট লিখন , অন্যথা হবে না , যার আততায়ীর হাতে মৃত্যু যোগ থাকলে কে আটকাবে ।
যীশুখৃস্ট ,মহাত্মা গান্ধী ,ইন্দিরা গান্ধী মুজিবর রহমান রাজীব গান্ধী এরা সবাই যথেষ্ট বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী নিয়তিতে তাদের ছিল অকাল মৃত্যু । সেখানে শত প্রার্থনা বা রত্ন ধারন করলে কোন শুভ ফল সম্ভব নয় । তবে এই সোজা কথা কজন উপলব্ধি করেন । তাই জোরের সাথে বলা ভাগ্য কেউ পরিবর্তন করতে পারে না । ভাগ্যে যা আছে তাই হবে ।









Comments
Post a Comment